উর্দ্ধগামী

গতকাল রাতে নিবারণ খাসীর মাংস দু টুকরো আর আলু দিয়ে গা মাখা ঝোল দিয়ে ভাত খেয়েছিল । কি যে পরিতৃপ্তি …

গতকাল রাতে নিবারণ খাসীর মাংস দু টুকরো আর আলু দিয়ে গা মাখা ঝোল দিয়ে ভাত খেয়েছিল ।

কি যে পরিতৃপ্তি ! আহা ! একটু বেশী ভাতই খেয়ে ফেলেছিল অন্যান্য দিনের চেয়ে ।

ইউরিক অ্যাসিডটা কম, তাই মঞ্জুল ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করেই খাসীর মাংস আনিয়েছিল ছেলেকে দিয়ে ।

কোমোরের হাড় সরে যাওয়ার ফলে, ভাল হাঁটাহাঁটি করতে পারে না, প্রায় দু বছর !

একটা চিনচিনে ব্যাথা লেগেই থাকে সবসময় ।

মাঝে মাঝে একটু হরির দোকানে যায়, যত না চা খেতে, তার চেয়ে বেশী আড্ডা দিতে ।

অবশ্য খুব একটা মতামত প্রকাশ করে না আড্ডাতে নিবারণ ! ওই বাড়ির বন্দীদশা থেকে মুক্তি আর কি!

আজ সকাল সকাল ঘুমটা ভাঙতেই খুব ফুরফুরে লাগল নিজেকে !

ব্যাথা টাথা নেই ! সেই আগেকার মত একটা বেশ টানটান ভাব শরীরে ।

হাফ পাঞ্জাবিটা গলিয়ে, চলে এল হরির দোকানে !

তখনও ভীড় জমেনি সেরকম ! চায়ের গেলাসে চুমুক দিতেই আরও ঝরঝরে লাগল নিজেকে !

ইয়ারের মাছ দরদাম করল নিবারণ ! পার্শে মাছ সাড়ে তিনশ টাকা কিলো !

ওজন করিয়ে দেখে নিল –এগারটা মাছ আছে ।

পকেটে হাত দিয়ে দেখল মানিব্যাগ আনে নি !

ইয়ারকে বলল – যা মাছটা কাটাকুটি করে দিয়ে আয় বৌদিকে ! দামটা চেয়ে নিবি !

ঘাড় নড়িয়ে চলে গেল ইয়ার !

মঞ্জুল ডাক্তার এই সাতসকালে কোথাও যায় না !

আজ নিবারণ দেখল – ব্রিফকেসটা হাতে নিয়ে হনহন করে ঢুকল , ওদের গলিতে !

একটা হৈ হৈয়ের শব্দ ভেসে আসছে গলি থেকে ।

হরি একটু এগোতে গিয়ে দেখল –ইয়ার হন্তদন্ত হয়ে আসছে হরির দোকানে !

এসেই জিজ্ঞেস করল নিবারণকে – আপনি নাকি মরে গেছেন গতকাল রাতে ?

বলিস কিরে ! এই তো চা খেলাম, মাছ দরাদরি করলাম আর আমি মরে গেলাম?

নিবারণ হাঁটা লাগাল ফ্ল্যাটের দিকে ! প্রচুর লোকের ভীড় !

বৌ মুখে আঁচল চাপা দিয়ে কাঁদছে ! ছেলে বৌমা হতভম্ব হয়ে বসে !

মঞ্জুল ডাক্তার ছেলেকে বলল – বুঝলে হে, তোমার বাবার ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়েছিল ।

নিবারণ ভীড় ঠেলে গিয়ে দেখল – সে শুয়ে আছে খাটের ওপর, গালে তিন চারদিনের দাড়ি আর লুঙ্গি পরে । মুখে একটা প্রশান্তির ভাব !

হঠাৎ দেখল – মা বাবা ডাকছে হাসিমুখে তাকে !

বাবা হাত বাড়াল – নিবারণের দিকে ! হাতটা ধরতেই – সোঁ সোঁ করে উঠে যাচ্ছে আকাশে !

বাবা বলল – ধীরে আয় ! পেছনে তাকাস না !

তুই যেমন আমার মুখে আগুন দেবার সময় বলেছিলি – দিব্যান্ লোকান‌্ স্ব গচ্ছতু ! তোর ছেলেও তাই বলবে !

সে যাক –এখানে আয় দেখবি কি আনন্দ !

পড়ে রইল নিবারণের টুকটাক বই, জামা চপ্পল আর ফেসবুক অ্যাকাউন্ট !

একটা গান তার মনে এল –

ঠাকুর তোমার তল্পী তোল

নিবারণ তো বিদায় নিল

Keep reading

More >