কলাপাতা কাটা

রোব্বার, রোব্বার-মামাবাড়ীতে বেশ কিছু আত্মীয় স্বজন আসতেন।সেদিনই একটা গোটা আলু সহ…………………গোটা হাঁসের ডিম পেতাম। হাঁসের ডিমের কষা ডালনা (আহা!!!!!!)। খাসীর …

রোব্বার, রোব্বার-মামাবাড়ীতে বেশ কিছু আত্মীয় স্বজন আসতেন।সেদিনই একটা গোটা আলু সহ…………………গোটা হাঁসের ডিম পেতাম।

হাঁসের ডিমের কষা ডালনা (আহা!!!!!!)।

খাসীর মাংসও হত,(উল্লুস!!!) কোনো কোনো রোব্বার। কলাপাতায় খাওয়া হত। তা, ডিমই হোক বা মাংস; ওগুলো সরিয়ে সরিয়ে ভাত খেতাম।

সরানোর পর যে ঝোল লেগে থাকত, তাই দিয়েই পুরো পাতাক্কে পাতা ভাত মেরে দিতাম। ডিম বা মাংস, যে রকম, সে রকমই থাকত। ওগুলো আসল তো! পরে আয়েস করে খেতাম, আরও ভাত নিয়ে।

বাড়ীতে,কলাপাতা কাটার দায়িত্ব ছিল আমার। টিং টিং এ লম্বা ( ভূতের মত চেহারা যেমন, নির্ব্বোধ অতি ঘোর- রবি ঠাকুর, ভবিষৎ দ্রষ্টা ছিলেন)। কিন্তু, কচি কলাপাতা চাই। তাই আমারও একটা বেঞ্চ বা টেবিল লাগত।
রতন (আমার মামাবাড়ীর ডাক নাম) কয়েকটা কচি কলাপাতা কেটে আনতো, দিদিমার হাঁক!
আর, শুনবি তো শোন, দাদু হাঁকটা শুনে ফেললেন।
– আরে, রতন বাচ্চা ছেলে!!! ও কি পারে? চল, সাথে আমি যাচ্ছি। তোকে কিস্সু করতে হবে না, খালি একটু আমায় হেল্প কর!
– নে, ঘরের বাতা থেকে ছুরিটা নিয়ে আয়!
আনলাম!
– এনেছিস? বাঃ! এবার বারান্দা থেকে টেবিলটা নিয়ে আয়!
আনলাম!
– নে, চল ওই কলাগাছটার কাছে নিয়ে চল, টেবিলটা।

নিয়ে গেলাম!

– টেবিলের ওপর ওঠ!

বাঃ! এই তো! উঠে পড়েছিস?

নেঃ! ছুরিটা নেঃ!

ওই ওপরের পাতা গুলো কাট! কেটেছিস?

বাঃ! এই তো! এবার চারফালা কর পেত্যেকটা পাতা!

বাঃ! এই তো! এবার চল, পুকুরে! ধুতে হবে তো!

ধুলি? বাঃ! এই তো!

– শুনছ! বলি শুনছ! এই দেখ, পাতা কেটে আনলাম। চ্যাংড়াকে দিয়ে আ্যাংরা কাজ হয়? (চ্যাংড়া= বাচ্চা, বারিন্দিররা এখনও এই শব্দটি ব্যাবহার করেন)

Keep reading

More >