নিমোর ইদ

“দাদিয়া, দেখে যাও। শুধু দেখে যাও একবার এরা কী করেছে।” নিমোর ডাক শুনে মা বেরিয়ে দেখল কুরবানি দেওয়ার পর গরু …

“দাদিয়া, দেখে যাও। শুধু দেখে যাও একবার এরা কী করেছে।”

নিমোর ডাক শুনে মা বেরিয়ে দেখল কুরবানি দেওয়ার পর গরু আর ছাগলগুলো ছাড়ানোর কাজ চলছে। বাপিরা আপাতত সাত ভাই, এক বোন। সব মিলিয়ে বেশ কয়েকটা পশু। বেশ কিছু লোকজন মাংস কাটাকাটির কাজ করছে। তাদের দিকে তাকিয়ে নিমোর বকাবকি চালু হয়ে গেছে ততক্ষণে — “গরুগুলো কী দোষ করেছিল? ওদের এভাবে মারলে কেন?” মায়ের দিকে তাকিয়ে আবার তার অভিযোগ — “আমি তো ওদের কাছে দাঁড়ালে আমায় একবারও কামড়াতে আসেনি।” উপস্থিত সকলের কাছেই তারপর নালিশ করেছে সে একে একে। কেউ হেসেছে, কেউ নিরুত্তর। নিমো হাল ছাড়েনি অবশ্য। পরের দিনও মাঝে মাঝেই বলেছে — “গরুগুলোর জন্যে আমার মন খারাপ।” তা বলে সে কাঁদেনি একবারও। বরং শাস্তিও বাতলেছে অপরাধীদের — “ছোটদাদুদের পাখিগুলো ছেড়ে দেব খাঁচা থেকে। লোকগুলোকে ঠুকরে ঠুকরে মারবে।” মারা-টা বোধ হয় প্রহার অর্থে, হত্যা অর্থে নয়। জাস্ট বেনিফিট অফ ডাউট।

 

নিমো ধর্মও বোঝে না, চিকেন-বিফ-মাটনও বোঝে না। তবু নোট করে রাখলাম। যদি পরের বছর একটা ভালোতর ইদ উপহার দেওয়া যায় পুত্রকে।

Keep reading

More >