|| পরকীয়া ||

“দশটা বাজতে চলল। চলে আসুন দিকি আড্ডা মারতে সব।এই পোস্টের কমেন্টে চলুক নির্ভেজাল আড্ডা।” আমার বৌ, ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়ি …

“দশটা বাজতে চলল। চলে আসুন দিকি আড্ডা মারতে সব।এই পোস্টের কমেন্টে চলুক নির্ভেজাল আড্ডা।”
আমার বৌ, ছেলেকে নিয়ে বাপের বাড়ি গিয়েছে, দিন সাতেকের জন্য। বাড়িতে আমি একা। বৃষ্টির জন্য টিভিতে সিগন্যাল আসছে না। কি করে টাইমপাস করবো ভেবে ল্যাপটপে ফেইসবুক করতে বসলাম। এই গ্রুপে নতুন জয়েন করেছি। অনেকে দিন কারোর সাথে আড্ডা দিইনি, ভাবলাম এখানে আড্ডা দিই। কাউকেতো চিনিনা, একটু দেখি কে কি লিখছে, তারপর না হয় রিপ্লাই দেবো।
অনেকটা সময় অতিক্রান্ত হয়ে গেলো, সবার কমেন্ট পড়ছি, আমিও দু-একটা কমেন্ট করলাম। আচ্ছা এখন রাত কটা? ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখলাম, কখন যেন সেটা বন্ধ হয়ে গেছে, ল্যাপটপের ঘড়িটাও অদ্ভুতভাবে বন্ধ…. মনে হয়, ব্যাটারিটা ড্যামেজ হয়ে গেছে, কাল একবার দোকানে নিয়ে যেতে হবে। বাইরে ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি পড়ছে…. ঘরেতো আর কেউ নেই… সত্যি কি কেউ নেই? সত্যি কি এই ঘরে আমি একা? আমার যেন কেমন মনে হচ্ছে, এই ঘরে আমি একা নই, কেউ যেন আছে আমার সাথে এই ঘরে… চারিদিক ভালো করে চোখ বুলালাম। না কেউ নেই! আমি একা ঘরে রয়েছি, বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে, কেমন একটা ভৌতিক পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে চারিদিকে, তাই বোধহয় উল্টোপাল্টা চিন্তা মাথায় আসছে।
আমাকে কেউ একজন ম্যাসেজ পাঠিয়েছে? কিন্তু কোনো নাম নেই কেন? সে কি করে সম্ভব?… একি? কি লিখেছে!!!
“চিনতে পারছো শ্যামল, আমি শ্রাবনী, একসময় তোমার প্রাণের চেয়েও প্রিয় শ্রাবনী, আমার সাথে চ্যাট করবে না?”
চমকে উঠলাম আমি। শ্রাবনী? কোন শ্রাবনী? মনে সাহস এনে ম্যাসেজ করলাম: “কোন শ্রাবনী?”
“একি? এত তাড়াতাড়ি আমায় ভুলে গেলে শ্যামল? এখনতো একমাসও হয়নি! আর এক সময় তুমি বলেছিলে, আমায় ছাড়া তুমি একমুহূর্ত থাকতে পারবে না? আর এখন আমায় ভুলে গেছো শ্যামল? সবটাই কি তখন অভিনয় ছিল? সত্যি কি তুমি কোনোদিন আমায় ভালোবেসে ছিলে? নাকি আমার শরীরটাকেই শুধু ভালোবেসেছিলে?”
না একিকরে সম্ভব, আমি যে ওকে নিজের হাতে করে… না না, কেউ আমার সাথে মজা করছে নিচ্ছয়! আমি লিখলাম: “কে আপনি? কি সব যাতা লিখছেন? আমি কোনো শ্রাবনীকে চিনি না!”
“তুমি এখন আমায় চিনতেও চাইছো না? তোমার বাড়ির পিছনে আমার লাশটা যে এখনো শুকিয়ে যায়নি!”
আমার গলাটা শুকিয়ে গেলো। সারা শরীর যেন প্যারালাইসিস হয়ে গেছে। আমার হাতটা যেন কেউ চেপে ধরেছে, কিছু টাইপ করার ক্ষমতা আমি হারিয়ে ফেলেছি….
শ্রাবনী মাস ছয়-সাতেক আগে আমাদের অফিসে জয়েন করেছিল। তিরিশের আশেপাশে বয়স হবে। কিন্তু দেখলে মনে হয় যেন ২৫-২৬ বছরের যুবতী। খুব সুন্দর দেখতে, আর বডিটাকেও খুব সুন্দর ভাবে মেইনটেইন করেছিল। স্বামী এক রোড একসিডেন্টে বছর দুয়েক আগে মারা গিয়েছেন। ছয় বছরের একটা ছেলেও আছে। শশুরবাড়ির অবস্থা খুব ভালো, কিন্তু সময় আর কাটেনা। তাই অফিস জয়েন করা। আমার অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে জয়েন্ট করেছিল। খুব অল্প সময়ের মর্ধ্যই আমাদের খুব ঘনিষ্টতা হয়ে গেলো। আমি নিজের অজান্তেই কখন এই প্রেমের খেলায় জড়িয়ে পড়েছিলাম। ওর রূপে এতটাই আসক্ত হয়ে পড়েছিলাম, যে ন্যায়-অন্যায়, বিচারবুর্দ্ধি সব কিছু হারিয়ে ফেলেছিলাম। নিষিদ্ধ যৌনতরা খেলায় আমার স্ত্রী-পুত্র-পরিবার সবকিছু ভুলে গিয়েছিলাম। কিন্তু ও আমায় যখন আপন করতে চাইলো, তখন আমার সম্বিত ফিরে পেলাম। কিন্তু তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমি যে স্ত্রী-পুত্রকেও খুব ভালোবাসি! ওদের ঠকাবো কি করে? কিন্তু শ্রাবনী কিছুই শুনতে চাইছে না। ও আমায় আপন করতে চায়, শুধু আমাকে চায়। তখন ও আমার কাছে কাঁটার মতো লাগতে লাগলো!
মাসখানেক আগে, আমার শশুরমশায়ের খুব জ্বর হয়েছিল। আমি স্ত্রী-পুত্রকে দুই দিনের জন্য শশুরবাড়িতে পাঠিয়ে দিলাম। শ্রাবনীকে ডাকলাম আমাদের বাড়িতে। ড্রিংকসে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের বাড়ির পিছনে বিশাল জঙ্গল, ওই জঙ্গলে কেউ কোনোদিন যায়না। আমি একা পাঁচিল টপকে ওর লাশটা জঙ্গলে একটা ছোট গর্ত করে পুঁতে দিয়ে এসেছিলাম। কোনো কাকপক্ষীতেও টের পাইনি!
এখন সারা ঘরটা যেন কেমন কুয়াশায় ভরে গেছে। কুয়াশাতা থীরে থীরে একটা নারীর রূপ নিচ্ছে। একি? এতো শ্রাবনী!!!
“শ্যামল, আমিতো তোমায় খুব ভালোবেসেছিলাম, তোমায় বিশ্বাস করেছিলাম, তবে কেন আমায় ঠকালে? কেন মেরে ফেললে আমায়? আমার বাচ্চাটার কথা একবার ভাবলে না? যদি তোমার ছেলের সাথে আমিও এইরকম করি? তখন কেমন হবে?”
আমার হাত-পা কাঁপতে লাগলো, যেন কথা বলার শক্তি হারিয়ে ফেলেছি, তবু অনেক কষ্টে বললাম: “না, শ্রাবনী, আমায় ক্ষমা করো তুমি। আমি ওটা করতে চাইনি! বিশ্বাস করো, আমি ওটা করতে চাইনি! কিন্তু আমার আর কিছু করার ছিলোনা। তুমি যে কিছুই শুনতে চাইছিলে না? আমার স্ত্রীকে সব বলে দেবার ধমকি দিয়েছিলে? আমি তোমায় ঠকাতে চাইনি, কিন্তু আমি যে আমার স্ত্রী-পুত্রকেও খুব ভালোবাসি। তুমি সেটা কখনো বুঝতে চাওনি!”
“সেটা আমার সাথে খেলা করার সময় ভাবোনি কেন? কেন আমার শরীর ও মন নিয়ে খেলা করেছিলে তুমি?”
“আমার বড়ো ভুল হয়ে গিয়েছিলো, আমি তখন তোমার রূপে অন্ধ হয়ে গিয়েছিলাম, সব কিছু ভুলে গিয়েছিলাম। প্লিজ আমায় ক্ষমা করে দাও।”
আমি দুহাত করজোড় করে কাঁদতে লাগলাম। আবার বলতে শুরু করলাম: “তুমি যা বলবে, আমি এখন তাই করবো। প্লিজ, আমায় কিছু করোনা, আমার পরিবারের কিছু ক্ষতি করোনা! আমার কিছু হয়ে গেলে, ওরাও যে অনাথ হয়ে যাবে! প্লিজ আমাদের ক্ষমা করে দাও।”
“বা, এখন আমি তোমার ছেলের কথা ভাববো? তুমি ভেবেছিলে আমার ছেলের কথা?”
আমি কুয়াশাচ্ছন্ন শ্রাবনীর পায়ের কাছে লুটিয়ে পড়লাম, বললাম: “প্লিজ, শ্রাবনী, প্লিজ, আমায় ক্ষমা করে দাও! আমি আমার পাপের প্রায়শ্চিত্ত করবো। প্লিজ আমাকে একটা সুযোগ দাও!”
ডং ডং ডং। ঘড়িতে তিনটের বেল পড়লো। আমি কখন যেন চ্যাট করতে করতে চেয়ারের উপর ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। ঘড়িটার দিকে তাকালাম। না, ঘড়িটাতো এখন ঠিক চলছে, ল্যাপটপের টাইমও ঠিকমতন কাজ করছে। তাড়াতাড়ি চ্যাটবক্স খুলে দেখলাম, না কোনো চ্যাট ম্যাসেজ নেই, এতক্ষন কি তবে স্বপ্ন দেখছিলাম? কিন্তু আমার সারাশরীর এই ঠান্ডাতেও কেমন ঘেমে গেছে, চোখও কেমন ভিজে ভিজে! এটাকি সত্যি স্বপ্ন ছিল? নাকি সত্যি এটা ঘটেছে? শ্রাবনী কি সত্যি এসেছিলো? আমাকে কি ক্ষমা করে দিয়েছে? না, স্বপ্ন হোক বা সত্যি, আমায় প্রায়শ্চিত্ত করতেই হবে! যে অপরাধ আমি করেছি, তার কোনো ক্ষমা নেই! আপনারা বলুন আমার এখন কি করা উচিত? আমার কি সাজা হাওয়া উচিত….

Keep reading

More >