স্বপ্নভঙ্গ অথবা জলজিরার প্রভাব

নব্বইয়ের দশকের দ্বিতীয় ভাগ, ‘বাচ্চেওয়ালী’ কামানের মতো ‘আই.টি বুম’-এর বুম বুম শব্দে ইউরোপ আমেরিকার ‘লেবার পেইন’ শুরু হয়েছে| সে যন্ত্রনা …

নব্বইয়ের দশকের দ্বিতীয় ভাগ, ‘বাচ্চেওয়ালী’ কামানের মতো ‘আই.টি বুম’-এর বুম বুম শব্দে ইউরোপ আমেরিকার ‘লেবার পেইন’ শুরু হয়েছে| সে যন্ত্রনা মেটাতে কম্পিউটার জানা লোকেরা মোটা মাইনের সঙ্গে শাঁসালো শ্বশুরের সুন্দরী মেয়ে বিয়ে করে বিদেশে পাড়ি দিচ্ছে। সুযোগ পেলেই ফ্ল্যাট কিনছে বা বাড়ি বানিয়ে ফেলছে উচ্চবিত্ত এলাকায়| মোটকথা আকাশছোঁয়া মাইনের সঙ্গে নজরটাও উঁচুতে উঠেছে।

ইউনিভার্সিটি থেকে পরীক্ষা পাসের খবর কলেজ ক্যাম্পাস-এ আসার আগেই বেশিরভাগ বন্ধুরা ক্যাম্পাস ক্র্যাক করে বেরিয়ে গেল। আম্মো কম যাইনা, তেমন কামানেওয়ালা না হলেও, ক্যাম্পাসের ফোকল গলে দেশের মধ্যেই প্রবাসী হয়ে গেলাম। কর্মস্থলে যাওয়ার সময় ট্রেনের থ্রি টিয়ারে বসে নিজেকে বোঝালাম, ওরে পাগলা সরকারি চাকরি, কোলিয়ারির কাজ, চেষ্টা করলে অনেক উঁচুতে উঠতে পারবি| সরকারি বাংলো পাবি, গাড়ি পাবি; একটু ধৈর্য্য ধর বাবা, ‘পে কমিশনটা’ বসতে দে, ভালো করে ডান হাত বাম হাতের ব্যাপারগুলো বুঝে নে, মেয়ের বাপেরা নিজেদের মধ্যেই হাতাহাতি লাগিয়ে দেবে চার হাত এক করার জন্য| সারা জীবন ওপরে উঠতে উঠতে মাজায় ব্যাথা হয়ে যাবে! নিজের মনকে এসব ভুজুং ভাজাং দিয়ে নিজেকে উঁচুতে তুলে দিলাম, আপার বার্থে উঠে চাদর মুড়ি দিয়ে শুয়ে পড়লাম।

যাইহোক, বিশাল কোলিয়ারির সব কম্পিউটার দেখভাল করতাম আর টাউনশিপে দু’কামরার কোয়ার্টারে থাকতাম। যাওয়া আসার পথে ডি.জি.এম, এ.জি.এম, সি.জি.এম, এদের পাঁচিল ঘেরা বাংলোগুলো দেখে আমিও কেউকেটা হওয়ার স্বপ্ন দেখতাম, ওনাদের মতো অনেক উঁচুতে ওঠার স্বপ্ন। কালো ধুলোয় ভরপুর দুনিয়ার মধ্যে ঝকঝকে বাগান ঘেরা বাংলো, উর্দি পরা দারোয়ান, দুধসাদা ‘অ্যাম্বি’, ঘোমটা খোলা ‘জিপসি’ দেখে আমার ওপরে চড়ার নেশাটা চড়চড় করে বাড়ছিল। ভাবতাম, ভেতরে নিশ্চই একজন কুঁচবরণ কন্যে তার মেঘবরণ চুল নিয়ে উচ্চপদস্থ সোয়ামির অপেক্ষায় লঘুপদে ঘরবার করছে| বন্ধুদের মতো লক্ষ্যটা আমারও বরাবরই উঁচু; তাই যাওয়া আসার পথে ঘাড় উঁচু করে পাঁচিলের ওপারটা দেখার চেষ্টা করতাম। আমি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার, সরকারি চাকুরে, পি.এফ-পেনশন আছে, শুধু বাংলো আর সুন্দরী বৌয়ের ব্যাপারটা একটু সমঝে নেওয়ার দরকার ছিল।

একদিন অফিসে বসে ভেরেন্ডা ভাজছি আর উঁচুতে ওঠার প্ল্যান ভাঁজছি, খবর এল ডি.জি.এম সাহেবের কম্পিউটার চলছে না। বড়সাহেব বলে কথা, আমিও হন্তদন্ত হয়ে তদন্ত করতে ডি.জি.এম অফিসের দিকে পা বাড়ালাম। ‘খবরদার’ হাঁ হাঁ করে উঠলেন, অফিসে নয় অফিসে নয়, বাড়ির কম্পিউটার, ম্যাডাম যেটা আনিয়েছেন নতুন|

বাড়িতে! মানে সেই পাঁচিল ঘেরা বাংলো বাড়ি!

ম্যাডাম! মানে বাড়ির ভেতরের সেই ডলপুতুল গৃহিনী!

গুরুজনেরা বলে গেছেন লক্ষ্য স্থির রাখলে সুযোগ আসবেই, এই তো এসে গেল। একটা ঘোরের মধ্যে পঙ্খীরাজের ডানায় ভর দিয়ে আমি এসে পড়লাম বাংলোর গেটে।

দারোয়ান সেলাম ঠুকে সসম্মানে গেট খুলে দিল; সরকারি বাংলোর চৌহদ্দিতে  প্রথম পা রাখলাম। মূল বাংলো পর্যন্ত নুড়ি বিছানো রাস্তা, দুপাশে কচি ঘাসে ঢাকা লন, সবুজ বাগানে মালির পরিচর্যায় ছাপ স্পষ্ট, বাহারি ফুল ফুটে আছে অজস্র। একদিকে ব্যাটমিন্টন কোর্ট, অন্যদিকে চেয়ার টেবিল পাতা; সাহেব আর মেম নিশ্চই খেলাধূলোর পর ওখানে বসে চা পান করেন; চাপানউতোর নিশ্চই হয় না, সে সব আমাদের মধ্যবিত্ত বাড়ির ব্যাপার।

তকমা আঁটা বেয়ারা ঘরে নিয়ে গিয়ে বসাল, বসা তো নয় সোফায় ডুবে যাওয়া। পাখা চালিয়ে দিয়ে সে গেল ভেতরে ম্যাডামকে খবর দিতে। পাখাটায় কোনো শব্দ নেই; দামি পর্দা, পালিশ করা মার্বেলের মেঝে, সুন্দর দেখতে ল্যাম্পশেড, শোকেসে সাজানো রকমারি জিনিসপত্র, বুক শেলফে কিছু বই, এই নাহলে জীবন! মুগ্ধ হয়ে দেখতে দেখতে উঁচুতে ওঠার স্বপ্নে বিভোর হয়ে গেলাম।

– নমস্তে।

চটকা ভেঙে গেল| পর্দা সরিয়ে ঘরে আসা মিসেস ডি.জি.এম এর গলা কানে মধু ঢালল। রোদ জল না লাগা মোমের মূর্তির মতো ম্যাডামকে দেখে চোখ আটকে গেল। ভাববেন না আমি চরিত্রহীন, আমার চোখ আটকে গেল স্বপ্নে। পাল্টা নমস্কার জানালাম বটে, কিন্তু মনে একটাই ভাবনা ঘুরপাক খেতে লাগল – ওপরে আমাকে উঠতেই হবে।

ম্যাডাম কম্পিউটারের সমস্যার কথা বলতে শুরু করলেন সামনে বসে।

– দেখুন তো নতুন কম্পিউটার, মাত্র দুদিন আগে কোম্পানির লোক এসে বসিয়ে গেল, আজ আর চলছে না।

– একদম চিন্তা করবেন না ম্যাডাম, দেখে নিচ্ছি।

– প্লিজ, একটু দেখুন, একদম লেটেস্ট মডেল| আমার তো খুব মনখারাপ হয়ে গেছে।

– দেখছি।

– একদম টপ মডেল| সারানো যাবে তো?

– দেখে নিচ্ছি|

– আজ সকালেই চালাতে গিয়ে দেখলাম চলছে না| একটু দেখে নিন প্লিজ|

দেখতে তো হবেই, এ যে আমার স্বপ্নের খেলার মাঠ! গম্ভীর মুখে উঠে গেলাম কম্পিউটারের কাছে। ঝকঝকে সানমাইকা লাগানো টেবিলে তিনি বিরাজমান; দামি কাপড়ের ঢাকনা সরাতে তাঁর প্রকাশ ঘটল। চেয়ারটা দেখেই বুঝলাম এদিগরে তার দোসর নেই; টেবিল চেয়ারের অংশটায় একটা মোটা নতুন গালিচা পাতা। ম্যাডাম উৎকণ্ঠিত মুখে এসে দাঁড়ালেন আমার পেছনে। ল্যাভেন্ডার না জেসমিন,  কিসের সুগন্ধ যেন ভেসে এল নাকে। নাঃ, ডি.জি.এম আমাকে হতেই হবে। রাজকীয় ব্যবস্থার মাঝে দাঁড়িয়ে রাজেন্দ্রাণীর প্রতি শিভ্যালরি দেখিয়ে বললাম, “ম্যাডাম, আপনি বসুন, আমি দেখছি।”

“ঠিক আছে”, বলে ম্যাডাম দাঁড়িয়ে রইলেন; নতুন কম্পিউটার কিনা, হয়তো চিন্তায় আছেন।

ইতিউতি নজর চালিয়ে দেখলাম, টেবিলের নিচে রাখা ইউ.পি.এস-এর সুইচটা অফ হয়ে আছে, নিশ্চয়ই পোছাওয়ালীর কান্ড। গম্ভীর মুখে সুইচটা অন করে দিলাম। পিঁক করে একটা আওয়াজের পর মনিটরে আলো ফুটে উঠল, সঙ্গে ম্যাডামের মুখে হাজার ওয়াটের হাসি। রিমোটের সুইচ টিপে এসি অন করে দিলেন ম্যাডাম। সব দিকে নজর আছে, উঁচুতে উঠতে গেলে শোচ সংস্কার সব উচ্চমার্গের হতে হয়!

অল্প দিনের অভিজ্ঞতা থেকে বুঝে গেছি, কাজ কখনো সোজা পথে করতে নেই, তাহলে ওপরে ওঠার গেট বন্ধ হয়ে যায়। সুইচ অফ করে সব তারগুলো খুলে আবার লাগলাম। এটা ওটা করে আরও মিনিট দশেক কাটালাম। অকারণে কয়েকবার কম্পিউটার বুট করে সাটডাউন করলাম। তারপর সুইচ অন করলাম। একবার বায়োস-এ ঢুকে বেরিয়ে এলাম, হার্ডডিস্ক-এর প্রপার্টি দেখলাম। ম্যাডাম মুগ্ধ চোখে দেখতে লাগলেন।

তারপরে একসময় ম্যাডামকে অনুরোধ করলাম একবার নিজে চালিয়ে দেখার জন্য। ম্যাডাম চেয়ারে গুছিয়ে বসে কম্পিউটারের সুইচ অন করলেন। স্ক্রিনে “স্টার্টিং উইন্ডোজ” ভেসে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে থ্যাংক ইউর বন্যায় ভেসে গেলাম আমি। গদগদ গলায় বললেন, “শুধু কম্পিউটার চালু করে গেলেই হবে না, মাঝে মাঝে এসে একটু শেখাতেও হবে; আমি কিন্তু কিছুই জানিনা।”

কি উচ্চ বিচার, কি বিনয়! গাম্ভীর্য্য বজায় রেখে বললাম, “সে দেখা যাবে।”

ম্যাডাম গদগদ গলায় বললেন, “তা বললে হবে না, আসতেই হবে। শিখতে হলে জানকার লোকের কাছেই শেখা উচিত। দেখলাম তো, কি সুন্দর করে কাজ করলেন আপনি!”

আমার ইঞ্জিনিয়ার হওয়া সার্থক; শুধু ওপরে ওঠা বাকি| ডি.জি.এম-এর বাংলোয় যাতায়াত করতে করতেই আমি ওপরে ওঠার ঘাঁতঘোঁতগুলো জেনে যাব, আর ম্যাডামকে কম্পিউটার শেখাতে এসে বুঝে যাব উচ্চ বিচারের মহিলাদের কি গুণ থাকা উচিত; তারপর আর আমাকে আটকায় কে!

“আপনি চলে যাবেন না প্লিজ; একটু অপেক্ষা করুন, আর কিছু দেখার থাকলে দেখুন”, বলে ঘরের ভেতরে চলে গেলেন ম্যাডাম; নিশ্চই চায়ের ব্যবস্থা করতে গেলেন।

সত্যি, এটুকু আতিথেয়তা না করলে এঁদের মানায় না। মানুষ কি এমনি এমনি উঁচুতে ওঠে! কি আর দেখব কম্পিউটারের, তাই শাটডাউন করে সোফায় বসলাম। এবার খাবার নিয়ে ভাবতে শুরু করলাম। কম্পিউটারের ব্যাপারে পরামর্শ দিয়ে অনেকের বাড়িতে চা বিস্কুট খেয়েছি; ডি.জি.এম বাংলোতে পুরি-সবজি হবে নিশ্চই। নিদেন পক্ষে স্যান্ডউইচ-ওমলেট-কফি| বাসনপত্রের ঠুং ঠ্যাং আওয়াজ যেন কানে মধু ঢেলে দিল।

একসময় দরজার পর্দা দুলে উঠল। নাহ ম্যাডাম নয়, তাঁর দূত এসে বলল, “ম্যাডাম বসতে বলেছেন, দু মিনিট, চলে যাবেন না|”

এ নিশ্চই ময়দা মেখে এল, ম্যাডাম নিজের হাতে লুচি ভাজছেন। সঙ্গে কি থাকতে পারে! বেগুন ভাজা, আলুর দম নাকি ছোলার ডাল! কিন্তু ভাজাভুজির গন্ধ তো আসছে না! না হোক, এই গরমে লুচি টুচি না খাওয়াই ভালো। চামচের টুং টাং শব্দ আসছে, তাহলে পুডিং, কাস্টার্ড বা ঘরে বসানো কুলফি!

বেয়ারা আরেকবার এসে অপেক্ষা করতে বলে গেল।  অনেক সময় লাগছে! বোধহয় তৈরি কিছু ফ্রিজে রাখা ছিল। রুম টেম্পারেচারে না এনে সোজা উনুনে বসালে স্বাদ কমে যায়, তাই সময় লাগছে। বাসি হলেও চিকেন কষার সঙ্গে রুটি বা পাঁউরুটি হলে জমে যাবে, নিদেন পক্ষে পনির।

কতক্ষন কেটেছে খেয়াল নেই, চটকা ভাঙল আবার পর্দা নড়ে ওঠায়। বেয়ারা ঘরে ঢুকল, হাতে ট্রে, তাতে এক গ্লাস জল, জলে জলজিরা জাতীয় কিছু একটা মেশানো আছে| কি উচ্চ বিচার; ভরপেট খাওয়ার আগে একটু এসব খাওয়া ভালো। একটু আমপান্না বা লাইম সোডা দিলে জমে যেত!

– নিন স্যার।

গ্লাস নিয়ে চুমুক দিলাম, চাকর চলে গেল ভেতরে, বাকি খাবার দাবার আনতে গেল বোধহয়। জলটা একটুও ঠান্ডা নয়, ফ্রিজ কি খারাপ নাকি রে বাবা! তাহলে কুলফি বা কাস্টার্ড-এর কি হবে! চিকেনটা গন্ধ হয়ে যাবে তো! তা নয়, হয়তো ম্যাডাম খেয়াল করেন নি, চাকর ব্যাটা বরফ দিতে ভুলে গেছে, ফাঁকিবাজ।

অল্প অল্প চুমুক দিয়েও গ্লাস শেষ হল একসময়, টেবিলে গ্লাসটা নামিয়ে রেখে বসে রইলাম; না এল খাবার, না এল খাবারের গন্ধ| অস্বস্তি লাগছিল। বেশ কিছুক্ষণ পরে চাকর ব্যাটা এসে জিজ্ঞেস করল কম্পিউটারের কাজ হয়ে গেছে কিনা। মাথা নাড়তেই এসি বন্ধ করল রিমোট দিয়ে; ও হরি, এসি অতিথির জন্য নয়, লেটেস্ট কম্পিউটারের জন্য চালানো হয়েছিল। তারপর পাখা বন্ধ করে পেছন ফিরে একমনে কম্পিউটারের ঢাকা পরাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ল।

উঠে পড়লাম, ভদ্রতার খাতিরে ম্যাডামের খোঁজ করে জানলাম, উনি চা খেতে খেতে টিভি দেখছেন। প্যানপ্যাননে বোকাবাক্স তো আমাদের মধ্যবিত্ত মা কাকিমারা দেখে। তবু বিকেল বেলা কেউ এসে পড়লে চাট্টি আচার তেল মাখা মুড়ি পায়। চাকরকেই বিদায় জানিয়ে বেরিয়ে এলাম।

আসার পথে পায়ের তলায় নুড়িগুলো বড্ড শব্দ করল, বাগানে তাকিয়ে দেখলাম সেই জবা, গুলঞ্চ, করবী আর বুগেনভিলিয়া; খুব কমন ফুল সব। গেটটাও ক্যাঁচকোঁচ আওয়াজ করল, তেল পড়েনি বহুদিন। গেটের বাইরে হুড খোলা জিপসী দেখে হাসলাম, এত তেল খায় গাড়িটা! আর উত্তরপাড়ার এম্বাসেডর, কোম্পানি এই উঠলো বলে। নিজের সেকেন্ড হ্যান্ড স্কুটারে স্টার্ট দেওয়ার জন্য একটু জোরেই লাথি কষালাম।

মাই ফুট, শালা ক্যাম্পাস ক্র্যাক করে চাকরি পাওয়া ইঞ্জিনিয়ার হলেও সাদা কলারের কম্পিউটার মিস্ত্রি বই তো নই। জীবনে আর যাই হোক, এরকম উঁচুতে কখনো উঠবো না; পড়ে গেলে খুব লাগবে।

তালেগোলে সে প্রতিজ্ঞা পূরণ হয়েছে| হেড মিস্ত্রি হয়ে আর কটা বছর কাটালেই হল; ডি.জি.এম তো দূরের কথা এখনো আমি ম্যানেজার হতে পারিনি।

**********

Keep reading

More >