মুক্তগদ্য

#ব্যক্তিগত গদ্য ১ মনকেমনের রংরুট  সামনে। অন্ধকারের সাথে তার সপ্তপদী।  বুকের লজ্জা মনে বেঁধে রাখার ছল। ধোঁয়া ধোঁয়া ওড়নায়  সেই …

#ব্যক্তিগত গদ্য ১

মনকেমনের রংরুট  সামনে। অন্ধকারের সাথে তার সপ্তপদী।  বুকের লজ্জা মনে বেঁধে রাখার ছল। ধোঁয়া ধোঁয়া ওড়নায়  সেই কোন ষোড়শীবেলাতেও তুমি ছিলে। বড় আদর করে নাম দিয়েছিলাম ‘আমার তুই’। আজও সেই ‘তুই’ খুঁজি। চলতে গিয়ে থেমে থাকায়। নিয়ন আলোর পাকে যেমন উড়ে মরে, ঘুরে মরে সোনাপোকা। সে মরণ দেখি বিস্ময়ে। কত সহজে তোর আলোয় ডুবে যাওয়া আমার ছায়া। নিবিড় এক বিষাদ। হতে পারিস ‘তুই’ কোনো কবি। কিংবা আপাদমস্তক এক মানুষ। যাকে আমি পাগল বলে চিনি। নিস্তরঙ্গ জলের ভিতর চাঁদ ছুঁয়ে থাকিস ‘তুই’।  কখনও বা মেঘের ডানায় সাজাস একবুক জল। তাই দেখে গাছেরা কাঙাল হয় নি:শেষে। মাটির রোমে জাগে ধ্রুপদী।

    কোথা থেকে এক ফ্রক পরা,  বিনুনি দোলানো মেয়ে মাটি মাখে, গ্রামের খানাডোবার রাস্তা তখন জল থৈ থৈ ঝুমুর ঝুমুর… একদঙ্গল কিশোরী পায়ের সাথে তার ছলছলে পিরীতি… যত শাসনের বাঁধ ভাঙা দুর্নিবার অনিয়ম। অকারণ আড় চাউনিতে রিনরিনে চুড়ির হেসে ওঠা। কোনো গোঁফের রেখা ওঠা সদ্য কিশোর দৃষ্টি বিনিময়ে হৃদয়ের টুংটাং। মন ডুবুরি। ডুবডুবে মনে খোঁজে অচিন পাখির দেশ। পড়ে জলকন্যার সাজ। তার রাজপুরীতে মন জুড়ে শুধু নানান রঙেদের হুল্লোড়ি, হুটোপাটি।

   সেই থেকে অনন্তকাল জুড়ে  নিজেকে খুঁজে চলা। পিলে চমকানিয়া মেঘের বুকে সাদা বক যে ইতিহাস লেখে তার পালকের কলমে, সে কলম বুকে জড়িয়ে রাখে অবাধ্য মেয়ে। তেমন ধুম বৃষ্টিতে আজো তার মন ভেজে একবার নয়। বারবার। আবার। সন্ধ্যে নেমে আসা কোনো বাঁকে চোখ ভিজে যায় । সকল দুখের প্রদীপ জ্বেলে তার ব্যথা পুজা  যে সমাপন হয়নি। আজ আবার ঝিমঝিমে মন ছলছলে, টুংটাং বাজে জলতরঙ্গ। ডুবে যাওয়ার দু:সাহস চোখে মাখে…
  For we are bound where
    Mariner has not yet dared to go
 And we will risk the ship,
    Ourselves and all…
ডুবুরী মন তোর অন্তরের মহাস্রোতে সাঁতার কাটে। আজ আমার সেই ‘তুই’ কে বড় মনে পড়লো, সকালের গর্ভিণী মেঘে, সন্ধ্যের চটুল হাতছানিতে….

Keep reading

More >