মুম্বাইতে দ্বিতীয়বার আসার গল্প আর একটা লোক

এইটা শুরু করতে হবে আমার এক বন্ধুর ডায়লগ দিয়ে। ওর ডায়লগ একেবারে কোটেশন লেভেলের। ঘোর ব্রাহ্মণ আমার সেই বন্ধু বলেছিল, …

এইটা শুরু করতে হবে আমার এক বন্ধুর ডায়লগ দিয়ে। ওর ডায়লগ একেবারে কোটেশন লেভেলের। ঘোর ব্রাহ্মণ আমার সেই বন্ধু বলেছিল, মানে আরেক বন্ধুর উদ্দেশ্যে, “ও ঠিক কালো না, ও হচ্ছে দু মিনিট কালো, তুই যেমন আধ মিনিট মোটা’।
আমি আবার সমে ফিরব।
আমি প্রথম মুম্বাইতে আসি হাওড়া মুম্বাই মেল ট্রেন করে, এদিকে সবাই বলছে দুরন্ত নাকি দুরন্ত, হেবী খাওয়া দাওয়া দেয়। তো প্রথম বার ফিরে দ্বিতীয় বার যাওয়ার সময় দুরন্তই ধরলাম। দেড় বেলায় ৫বার খেতে দেয় আর ট্রেন এ আমার বেশ ভালোই মজা হয়। তো ট্রেন ছিল সকাল 8টা পাঁচ, সেবারে আর কাউকে সঙ্গে নিইনি এমনিই একটু মনটা খারাপ ছিল। তা ট্রেন উঠলাম, সে চলল, একটু পরেই আলাপ হল এক বাঙালী দম্পতির সাথে, দু এক কথার পর এলো সেই মাহেন্দ্রক্ষণ, কি করো তুমি? আমি মিন মিন করে বললাম, এই দু একটা সিরিয়ালে লিখেছি, ব্যাস অমনি মহিলা তার শুটকো মতন একটু ভাব নেওয়া বরকে লাফ দিয়ে উঠে বললেন, “এই শুনছো সিরিয়াল লেখে বলছে, আমি যেগুলো দেখি”। যারা ছোটবেলায়, লালকমল নীলকমল এর ক্যাসেট শুনেছে তারা জানে, সেখানে ‘রাক্ষসরা জিজ্ঞাসা করেছে, ঘরে কে জাগে, লালকমল বলে ফেলেছে, লালকমল জাগে, আর খোক্ষসারা বলছে, ওঁরে লালকমল বলছে রে…’ আমার সেরকমই মনে হচ্ছিল। এরপর বর লোকটি, গুপী গাইন বাঘা বাইনের নৃপতির কায়দায় একটা হেসে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘তা কি কি লিখেছো?’ এরকম চলছে হঠাৎ দেখলাম একটি ছেলে সিট খুঁজতে খুঁজতে এসে সাইড লোয়ার বার্থে বসল, তার সামনে আর একজন বসেছিল বেশ হাট্টাকাট্টা গোছের, দুজন কথা বলছে আমি শুনে বুঝলাম স্বাস্থ্যবানটি সিনেমায় স্টান্ট এর কাজ করে, আর নতুনটি পাকানো লোম লোম গোঁফওয়ালা ছেলেটা এডিটিং এর, পরিচয় হল।
এবার সন্ধ্যের একটু পর দেখি এডিটর ছেলেটি বলছে, সিগারেট খাবে? আমি আগেরবার একটু চাপে পড়েছিলাম বলে ৫টার বেশি সিগারেট সাথে নিইনি, কিন্তু দরজার সামনে গিয়ে দেখি ওখানে খোরেদের হাট, আর তার মাঝে, একটি লম্বা তিন মিনিট কালো, লাল চোখো, রামের গন্ধ মাখানো লোক বসে সকলের পোঁদে লাগছে। * সে একেবারে গায়ে পড়ে চাটা যাকে বলে, মানে কেউ হয়ত বলল,
-ট্রেন লেট হোগা লাগতা হেয়।
সে বলল,
-পহচান তে হ্যায়?
-কিসকো?
-ড্রাইভার কো?
-নেহি তো
-ও ম্যায় সোচা রিস্তেদার হোগা আপকা!
দ্বিতীয় লোকটির প্রস্থান।
এই চাটনদারটিকে দেখে কি জাত বোঝা যায়না, তবে বাঙালী, নাম বলেছিল দেবাশীষ বা হিমাদ্রি কিছু একটা হবে, ভুলে গেছি। পকেট থেকে ছোট্ট একটা নিপ বার করে ঢুকুৎ করে অনেকখানি করে গিলছে তারপর হেল্পারগুলোকে ডেকে এককাপ ইষৎ গরম জল চেয়ে খেয়ে নিচ্ছে, আর বলছে ‘সব শালা বোকাচোদা, গাঁড়ে দম নেই, এটা আমার দু নম্বর চলছে, আর একটা খেয়ে শুয়ে পড়ব’। তারপর যা জ্ঞান উরিবাপরে! উনি জানেন E=mc2 এর গুঢ় তাৎপর্য বলবেননা শুধু বাজার নষ্ট হয়ে যাবে বলে।
এরপর শুরু হল দলে দলে লোকের আসা কিনলের বোতলে মাল মেশানো আর খাওয়া। লোম লোম গোঁফ ওয়ালার কাছেও ছিল, আমি খাইনি, আসলে একটু ঠিকঠাক সঙ্গত না পেলে আমার আবার… তাছাড়া বারণও ছিল, থাক ওসব গুহ্য কথা। পরদিন সকালে কালো লোকটা আর চিনতেও পারেনি।

*কেমন সমে ফিরলুম বলুন।

Keep reading

More >