যাত্রা।। ইন্দ্রনীল সুমন

যাত্রা-১ ।। ইন্দ্রনীল সুমন জঙ্গলের পথে বহুদুর হেঁটে বুঝে নিই কিছুই হাঁটিনি আমি ভোর ভোর চলা শুরু হেসে নেচে গান …

যাত্রা-১ ।। ইন্দ্রনীল সুমন

জঙ্গলের পথে বহুদুর হেঁটে
বুঝে নিই কিছুই হাঁটিনি আমি
ভোর ভোর চলা শুরু
হেসে নেচে গান গেয়ে
কথা বলা শুরু,
তা-প্রায় অর্ধেক জীবন

সুচনায় পাশে ছিল চারাগাছ—
ভয়ে, সঙ্কোচে কেঁপেছিল তিরতির
ভোরের বাতাসে—
একে একে মেঘ-রোদ-ঝড়-জল-
অথবা-তবুও-যদি
যে যার সংলাপ বলে চলে গেল
নিজস্ব পাওনা বুঝে নিয়ে,
অসন্তোষে, আরো কিছু আশা ছিল বুঝি?

এইভাবে বেশ চলছিল
হাঁটা হাঁটা খেলা, দিনগত,
অভ্যাসমতো—

চারাগাছ মহীরুহ হয়ে ঝুরি নামিয়েছে,
মাটি ছোঁবে ফের, স্পর্ধায়,
আমার প্রথম পা আজও টলমল,
হেঁটে চলে, হেঁটে চলে অনিমেষ চোখে

যাত্রা-২ ।। ইন্দ্রনীল সুমন

একটু ছড়িয়ে বসার জায়গা পেলে বসতেই হয়
সন তারিখের ভিড় ঠেলে,
মৃদু হাতে পাথরের ধুলো ঝেড়ে বসতেই হয়

সঙ্গীহীন নিঃশঙ্ক যাত্রীও বিশ্রাম নেয়
যতক্ষণ চলা
ততটা সময় জুড়ে তারাটিও চলে, সাথে চলে,

দু-চার আকাশ উড়ানের শেষে জিড়োয় শঙ্খচিল
আমি তার কতটুকু জানি?
আমি আর কতটা আকাশ উড়ে যেতে পারি?

ওপরে ছড়িয়ে আছে যুদ্ধের মেঘ
ছোটাছুটি ব্যস্ততা খুব
আমি বসি বিশ্রামে, সন তারিখের ভিড় ঠেলে

বুড়ো পাহাড়ের দেশে
বুড়ো পাথরের পাশে
প্রাচীন জলের বুকে ছায়া পড়ে

কোনো বহুদূর মানুষের ছায়া পড়ে
অবিকল আমারই মত সেই ছায়াশরীরের ঘ্রাণ
আমায় মাতাল করে, আশরীর টলমল আমি
নগ্নদেহ, নগ্নমন… হেঁটে যাই ঋজুরেখা ধরে
অ-কলঙ্ক সূচনার মন্ত্রহীন দেশে…

যাত্রা-৩ ।। ইন্দ্রনীল সুমন

অরণ্যে একলা যাবো
আমায় সমীহ করো মেয়ে
আদিগন্ত আসমানী মায়ায় মায়ায়
স্নান সেরে নেবো

কৌতূহলী সারসের ডানা ঝাপটানো শেষ করে জলঝুড়ি
ফিরে ফিরে আসে
মুহূর্ত উড়ে যায় নভেম্বর রাতে
যতদূর বাঁওড়ের শেষ, সেইখানে,
আমার দৃষ্টির পরে আর এক আমি থেকে যাই
অদৃশ্য, অসংজ্ঞেয়, অনস্তিত্বের মাঝে
একরাত নৈঃশব্দ্য শুয়ে আছে, বিগতকালের মতো
বিগত প্রেমের মতো,
আমি তা’রে স্বীকার করি না

অরণ্যে একলা যাবো
অরণ্যেই যাবো, একলাটি…

Keep reading

More >