হর এক ফ্রেন্ড কামিনা হোতা হ্যায়…”

একটা সময় ছিলো যখনএকটা রেওয়াজ ছিলো মানি ব্যাগে, ওই যেখানে এক টুকরো স্বচ্ছ প্লাস্টিক থাকে সেখানে প্রিয় হিরোইন বা হিরোর …

একটা সময় ছিলো যখনএকটা রেওয়াজ ছিলো মানি ব্যাগে, ওই যেখানে এক টুকরো স্বচ্ছ প্লাস্টিক থাকে সেখানে প্রিয় হিরোইন বা হিরোর ছবি রাখাI কেউ কেউ মা কালী বা কুলগুরু কোনো বাবাজির ছবিও রাখত অবশ্য!
তো আমার এক বন্ধু রাখত রঞ্জিত, শক্তি কাপুর, প্রেম চোপড়ার ছবি ! ….চেনেন তো এদের? একসময়ের হাড়হিম করা ভিলেন ! বন্ধুটির সিম্পল লজিক ছিলো …” এরাই অরিজিনাল …হিরোদের মতো আবার কেউ হয় নাকি! সব ঢপ …তাছাড়া সারা সিনেমায় এদেরই দাপট …হিরোর মা বাবাকে মারে, হিরোকে রাস্তা বসিয়ে দেয়, বোনকে তুলে নিয়ে যায় ..দামী চুরুট, দামী মদ ….সুন্দরী নিয়ে ফুর্তি করে, লম্বা গাড়ি চড়ে …..আর হিরো? তখন কোনো ডকে মুটের কাজ করছে! ওই শেষ দশ মিনিট একটু ক্যালানি খায় ব্যাস! ..ধুর ধুর. ..”

এই হচ্ছে বন্ধু! সেই কবে থেকে বাবা মা, স্যার ম্যাডাম নন …আমাদের আদর্শ বলুন দর্শন বলুন গড়ে ওঠার মুল রূপকার এরাই ….এবং তাদের তুলনা শুধু তারাই ..

একটা গান আছে…. তাতে বলছে ” হর এক ফ্রেন্ড কামিনা হোতা হ্যায় ” ….

তা এই ” কামিনা” বন্ধুরা চিরকাল বিশেষ করে যতদিন পর্যন্ত ওই ” loss of innocence ” পর্যায় শুরু হচ্ছে, যতদিন পর্যন্ত আমরা চাহিদা আর যোগানের কখন না মেলা পাশাপাশি কষে চলা অংকের হিজিবিজির বাঁকে হারিয়ে না যাচ্ছি …ততোদিনে পর্যন্ত পথের আলো তারাই, অন্ধকারের সঙ্গীও ..কখনই হাত না ছেড়ে যাওয়া একগুঁয়েমি I

এই যে অল্প স্বল্প লিখি টিখি এর সুত্রপাত কি করে জানেন? প্রেম পত্র লিখে লিখে …..আজ্ঞে হ্যাঁ, পড়ার বাইরে রচনা বলতে অন্তত একসাথে চার পাঁচ জনের প্রেম পত্র লেখা! গুছিয়ে , রসিয়ে এবং ভাসিয়ে চিঠি লেখার মুন্সীয়ানার জন্য বেশ কদর ছিলো …সিস্টেম এটাই ছিলো যে আমি লিখে দেবো, তার জন্য আগের উল্টোদিক থেকে আসা চিঠি পড়া দরকার এবং আমার লেখা ওরা নিজের হাতে কপি করে তারপর যাকে দেওয়ার দেবে ….মাঝে মধ্যে কিছু মজুরীও জুটতনা এমন নয়! রথের মেলায় মোগলাই বা পোদ্দারের দোকানের পরোটা ….কিন্তু ওই ” কামিনা” বন্ধুদের কেউ কেউ এতটাই কুঁড়ে ছিলো যে তারা সরাসরি আমার লেখা চিঠিটাই দিয়ে দিত! বুঝুন! ….মানে ইনা – মিনা – ডিকার কাছে এক সাথে আমার লেখা চিঠি যাচ্ছে এবং তারাও উত্তর দিচ্ছে প্রেমে গদ গদ হয়ে ….আবার আমি দিচ্ছি …..চলছে তো চলছে! আমরা জানতেও পারছিনা কি হচ্ছে এমনকি কিছু ক্ষেত্রে চিনছিও না.. ভাবুন একবার !..

এরকম কামিনা বন্ধুরাই তো ছিপি করে অল্প অল্প করে যত্নে মদ্যপান শেখায়! …..একটা সিগারেট চার জনে খায়, বাড়াবাড়ি করে ফেললে সামলায় …..পরীক্ষায় চোতা সাপ্লাই করে! ফাঁকা কোয়াটারে বান্ধবী নিয়ে ঢুকলে পাহারা দেয় বাইরে! শুধু গবেষণার জন্য কন্ডোম এনে ফুলিয়ে গাছের ডালে বেলুনের মতো টাঙিয়ে রাখে!

বন্ধুরা বড় হয়, তাদের দাদাদের দিদিদের বিয়ে হয় ……বন্ধুর বাবা শুধু খরচ দেবে বাকি ব্যাবস্থা ঠিক হয়ে যাবে …..বন্ধুরা আছে না!
গ্র্যাজুয়েশন পরীক্ষা আর পনেরোদিন, বন্ধুর মা হসপিটালে ভর্তি ….দু একজন থাকা দরকার রাতে …… পনেরো জন থেকে গেলো!
বাড়িতে একা ….খাওয়া দাওয়া নিয়ে পরোয়া নেই, ঠিক চলে আসবে রুটি ভাজি …অনেক সময় এক সঙ্গে দু বাড়ি থেকে!
কখনও বা পেড়ে আনা এঁচোড় বন্ধুর অনেক বড় দিদির হাতের রান্না স্রেফ বাটি করে এঁচোড়ের তরকারি খায় মহা আনন্দেI

বন্ধুদের বয়স বাড়ে …..বন্ধুরা বড় হয় না!
এখনও এক এক দিন আমার আশি বছরের বাবাকে দেখি আড্ডায় তর্ক বিতর্ক করে এসে গুম মেরে বসে আছে বাড়িতে ……

জীবনের এই জরুরি ” কামিনা ” বন্ধুদের কথা লিখতে লিখতে কত লম্বা পোস্ট হয়ে গেল দেখলেন! …..সব লিখতে গেলে সার্ভার কম পড়ে যাবে…..

যদিও বন্ধুত্বের কোনো দিবস – রজনী হয় বলে বিশ্বাস করি না …তবু বন্ধুত্বের এই আনুষ্ঠানিক বৃষ্টি নরম দিবসে এই পোস্টটি উতসর্গ করলাম আমার সেইসব অসংখ্য ” কামিনা” বন্ধুদের নামে ….যারা না থাকলে এ জীবন শুধু ব্যাকারণের ক্লাস মনে হতো…..

Happy Friendship day. 🙂

#মনমজলিশ

Keep reading

More >