ফিরে যাওয়া অথবা আসা

এখন – তারাপদ রায় মনে নেই, আমি নিজে ফিরে গিয়েছিলাম, অথবা তোমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম, এখন আর কিছু মনে নেই, তবু …

এখন
– তারাপদ রায়

মনে নেই,
আমি নিজে ফিরে গিয়েছিলাম, অথবা
তোমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম,
এখন
আর কিছু মনে নেই, তবু দুঃখ হয়
এখন, যখন একেকদিন খুব বৃষ্টি নেমে আসে
এখন, যখন একেকদিন খুব শীতের বাতাস
শুধু পাতা উড়িয়ে উড়িয়ে
আমার চারদিকে বৃষ্টি ও ঠান্ডা বাতাস ঘুরে ঘুরে;
এমন কি যখন সেই পুরনো কালের সাদা রোদ
হঠাত্‍ ভোরবেলা ঘর ভাসিয়ে ছাপিয়ে,
‘কি ব্যাপার এবার কোথাও যাবে না?’

এখন আর কোনোখানে যাওয়া নেই,
এখন কেবল ঠান্ডা বাতাস, এখন বৃষ্টি, জল
আমার চারপাশ ঘিরে পাতা ওড়ে আর জল পড়ে ।
এখন তোমার জন্য দুঃখ হয়,
এখন আমার জন্য দুঃখ হয়,
আমি নিজে ফিরে গিয়েছিলাম অথবা
তোমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিলাম, এখন দুঃখ হয়

হয়তো প্রতিটি মোড় ঘুরলেই কিছু কিছু স্বেদ আর রক্তবিন্দু ক্ষয় হতে থাকে। হয়তো তারা অতীত নয়, ভবিষ্যৎ নয়, বর্তমানের এক একটা পাতা। এক পাতায় এক একটা গল্প। এক গল্পে এক এক জীবন। হয়তো কেউ কোথাওই ছেড়ে যায় না কিছু। হয়তো ছেড়ে গেলেও ফিরে ফিরে যেতে হয়।

তবুও তো মানুষ ঘর বাঁধে। নতুন জায়গা, নতুন ঘাসের গন্ধ, নতুন নিমকাঠের চোখ, দোলনা স্লিপ আর পিনকোডের নাম্বার বদলে বদলে যাওয়া।

তবুও মানুষ ঘর বাঁধে। অন্ধকার থেকে আলোয় উঠে আসতে বা আলো থেকে অন্ধকারে উত্থানের আকাঙ্ক্ষায়। কিছু কিছু রোদ, রেলপথ, কিছু কিছু ডাহুক, কোকিল, বউ কথা কও। সাপের লতানে চলন, পুরনো আলমারি, কাঁচের টেবিল আর ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে রাখা ভেঙে যাওয়া পাঞ্জাবীর বোতাম, দুলের গুঁজি, পাওডারের গন্ধ, এসেন্স আর গঙ্গার জল। পাখার গায়ে জমে থাকা ধুলো, কুলারের গোঁ গোঁ আওয়াজ, ট্রেনের কুঝিক মেলানকলি। ফিরে ফিরে ডাকে সব। হয়তো কোনদিন কবির কলমে জেগে ওঠে নতুন শহর, নদী, পাহাড় পর্বত বন। তদ্দিন নতুনের ঠিকানায় আসে চিঠি। ফিরে আসার, ফিরে যাওয়ার…

 

কতদিন পরে
-তারাপদ রায়।

ফিরে যাওয়া যায়।
হঠাৎ পথে নেমে, জামতলা পার হয়ে
এক-পা ধুলো আর হাত-ভরা শাপলার ফুল
তোমার দরজায় গিয়ে দাঁড়াতে পারি।
সন্ধ্যাবেলা রান্নাঘরের ফাঁকে
কেরোসিনের কুপি জ্বলছে।
হলুদ মাখা হাতে আলগোছে ঘোমটা টেনে
তুমি বললে, ‘কতদিন পরে এলে’।
তখন সারা উঠোন ভ’রে
বাতাবির ফুল ছড়িয়ে আছে।
মাঘের স্তব্ধ হাওয়া,
পুকুরের জলে জোনাকির ছায়া
কত দিনের কত ছবি—
তবু কি ফেরা যায় !

Keep reading

More >